ইসলামে ঋণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রথম আলো জানায়, মহানবী (সা.) ঋণ পরিশোধের জন্য নিয়ত, দোয়া, পরিমিতি ও কঠোর পরিশ্রমের পথ দেখিয়েছেন।

১. পাওনাদারের টাকা পরিশোধের দৃঢ় মানসিক সংকল্প

ঋণমুক্তির প্রথম শর্ত হলো পাওনাদারের টাকা পরিশোধের দৃঢ় মানসিক সংকল্প বা নিয়ত থাকা। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে তা পরিশোধের উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করে বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।

২. দুশ্চিন্তা ও ঋণের পাহাড় থেকে মুক্তির দোয়া

দুশ্চিন্তা ও ঋণের পাহাড় থেকে মুক্তির জন্য নবীজি সাহাবিদের কিছু বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। একটি দোয়ায় আল্লাহর কাছে দুশ্চিন্তা, বেদনা, অক্ষমতা ও ঋণের বোঝা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।

দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউজু বিকা মিন গালাবাতুদ দাইনি ওয়া কহরির রিজাল।

অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও বেদনা থেকে, আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন–পীড়ন বা আধিপত্য থেকে।

৩. জীবনযাত্রায় পরিমিতিবোধ

বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হলো জীবনযাত্রায় পরিমিতিবোধ ও অপচয় পরিহার করা। আল-ফতোয়া আল-হিন্দিয়া অনুযায়ী, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উচিত মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত আয় দিয়ে আগে ঋণ পরিশোধ করা।

৪. হালাল উপার্জনে কঠোর পরিশ্রম

ইসলামে কর্মবিমুখতার কোনো স্থান নেই। হালাল উপার্জনে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজের সাধ্যমতো পরিশ্রম করে আয় করতে থাকলে আল্লাহ সেই উপার্জনে বরকত দান করেন।

৫. পাওনাদারের সঙ্গে উত্তম আচরণ ও সময় প্রার্থনা

পাওনাদারের সঙ্গে বিনীত আচরণ করতে হবে এবং অভাবগ্রস্ত হলে সময় চাওয়া উচিত। পবিত্র কোরআনেও এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘আর ঋণগ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া উচিত।’

প্রথম আলো জানায়, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনিই এমন পথ থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন।