ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি ৩০টি দেশীয় অস্ত্র ও সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা সহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে দেড় বছরের সাজা ভোগ করেন। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান জিহাদকে ২০২১ সালে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
২৭ অক্টোবর ২০২৩-এ সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জিহাদকে প্রশাসক ও ৯ জনকে সদস্য মনোনীত করে ১২০ দিনের সময়কাল নির্ধারিত হয়। ৩ নভেম্বর ২০২৩-এ জিহাদ ও অন্যান্য সদস্যরা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২৩ নভেম্বর ২০২২-এ কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল ১০১ আত্মসমর্পণকারীকে দেড় বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দেন।
জিহাদকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি পুলিশের হাতে গেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার সময়, তার সাথে সখ্যতার অভিযোগ ওঠে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, জিহাদ ২০২১ সালে নিজের রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
কক্সবাজার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক হাসান সিদ্দিকী জানান, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জিহাদকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়, তবে ৫ আগস্ট পরে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
নবগঠিত পরিষদে সদস্য হিসেবে ১ নম্বর ওয়ার্ডে রশিদ মিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডে রানু আক্তার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে লায়লা বেগম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জহির আহমদ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মৌলভী রফিক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রশিদ আলম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রেদুয়ান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নজির আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৬ জন সদস্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।
জিহাদ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বলেন, “আমি জনগণের ভোটের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এই পরিষদ গত পাঁচ বছর সামলেছি। এটি সাময়িক দায়িত্ব এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের সেবা দিয়ে যাব।”
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান উভয়েই প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করেন।







