প্রথম আলো অনুসারে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে ২৬ অক্টোবর একটি চিঠি প্রেরণ করে প্রস্তাবিত তিনটি আইন—সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন ২০২৬—কে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬
অ্যামনেস্টি উল্লেখ করেছে যে পূর্বের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন ২০০৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ প্রায়ই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান, হয়রানি, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধের পরিধি বাড়ানোর ধারাগুলি রয়েছে, যার সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও বিস্তৃত হওয়ায় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকদের নীরব করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ধারা ৮(২) অনুযায়ী তথ্য অপসারণ বা প্রকাশ বন্ধের অনুমোদন পাওয়ার জন্য সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং তিন দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি দশ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬
এই আইনকে অ্যামনেস্টি স্বাগত জানিয়েও উল্লেখ করেছে যে এটি আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গুমের শিকার ব্যক্তির সংজ্ঞা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং একই সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা গ্রেপ্তার ও তার তথ্য গোপন রাখার শর্ত বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ধারা ৬-এ অন্তর্ভুক্ত মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিলের দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, ধারা ১৮-এ অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করার অনুমতি রয়েছে, যা ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে, এবং ধারা ২১-এ মিথ্যা গুম অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়েছে, যা শিকারের পরিবারকে অভিযোগ থেকে বিরত রাখতে পারে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন ২০২৬
র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি গঠন করা হলেও, একই কর্মী, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন ইউনিটে স্থানান্তরিত হবে বলে অ্যামনেস্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থা র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উল্লেখ করে, এবং এই অভিযোগগুলো যাচাই না করে নতুন ইউনিটে সদস্য নিয়োগকে ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চ্যানেল আই, ইত্তেফাক, আজকের পত্রিকা এবং চ্যানেল ২৪ সহ অন্যান্য মিডিয়া এই চিঠি ও উদ্বেগের বিষয়টি একইভাবে প্রতিবেদন করেছে, তবে কিছুতে চিঠি পাঠানোর দিনকে “গত সোমবার (২৬ অক্টোবর)” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্য প্রথম আলো অনুসারে এবং অন্যান্য উল্লিখিত আউটলেটের প্রতিবেদনের সঙ্গে সমন্বিত।







