শাল্লা উপজেলায় দৌলতপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতের বেলায় দুলাল মিয়া ও তার পরিবারের বাড়ি ও দোকানে আক্রমণ ঘটে। আক্রমণে কমপক্ষে পাঁচজন আহত এবং চারটি ফ্রিজ, ছয়টি গরু, দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চার লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙচুরের প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মামলা দাখিলের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
দুলাল মিয়া ২০১৬ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী ছিলেন। তার বাবা মামুদ আলী ১৯৭১ের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন এবং পরিবারের সাতজন আত্মীয়-স্বজনও শহীদ হয়েছেন।
দুলাল মিয়ার মেয়ে উজ্জ্বলা আক্তার জানান, তার বাবা ও স্বামী হেলাল মিয়া একসাথে গ্রামের একটি দোকান পরিচালনা করতেন। ২৩ অক্টোবর দোকানে চুরির ঘটনা ঘটার পর শাল্লা থানাকে জানানো হয়। ২৯ অক্টোবর পুলিশ গ্রামে এসে কয়েকজনের সঙ্গে কথাবার্তা হয়, এরপর রাতে ১৫‑২০ জনের একটি দল, যার মধ্যে জালাল মিয়া, তোফাজ্জল মিয়া, শাহিন মিয়া, হেকিম মড়ল, সুলতান, রাজ্জাক, তারেক, শামিম ও নূর ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আক্রমণ চালায়।
আক্রমণে পরিবারের তিন নারী সদস্য—ফাতেমা বেগম, ফরিদা বেগম ও রোকেয়া বেগম—কে মারধর এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়। উজ্জ্বলা ও তার ১২‑বছর বয়সী মেয়ে যৌন সহিংসতার হুমকির মুখে পড়েন। আহতদের দিরাই ও শাল্লা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুলাল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং জামাতা হেলাল মিয়া উভয়েই জানান, আক্রমণকারী ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পরিবার দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং হামলার পর দুলাল মিয়া পাওয়া যায়নি।
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডাঃ মোকতাদির আহমদ জানান, তিন নারী ও এক শিশু আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, পুলিশ গ্রামে দিনের বেলায় গিয়েছিল, কথাবার্তা হয়েছিল এবং পরে রাতের হামলা ঘটেছে; বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
এই তথ্য ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনুসারে।







