দেশের তরুণ সমাজ মাদকের বিষাক্ত ছোবলে এক মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হলেও দেশে এখন কার্যকর মাদকবিরোধী অভিযান চোখে পড়ে না। আঙ্কটাড ও অভ্যন্তরীণ অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪৮১ মিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকারও বেশি) মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়। এই বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম স্থানে আছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইয়াবা ও সিনথেটিক ড্রাগের আকার প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের অধিকাংশই হুন্ডি ও অবৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে চলে যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ থেকে ১ কোটি। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই সরাসরি ইয়াবায় আসক্ত।
গত ৬ মাসে ঢাকায় ৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বনানীর তারকা হোটেল আমারী, গুলশানের জার্মান ক্লাব ও তেজগাঁওয়ের ফুয়াং ক্লাবসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অ্যালকোহল বিক্রির নিয়ম লঙ্ঘন। অথচ কোনো ইয়াবা বা আইস সিন্ডিকেটের আস্তানায় বা মাদকের গডফাদারদের ডেরায় উল্লেখযোগ্য যৌথ অভিযান দৃশ্যমান হয়নি।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, রাষ্ট্র যদি মাদকের গডফাদারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে, তবে সামাজিক অবক্ষয় ঠেকানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেজর (অব.) জাহাঙ্গীর হোসেইন বলেন, বৈধ বার বা হোটেলকে মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, এগুলো কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা হয়রানিমূলক অভিযান নয়। শুধুমাত্র অনিয়ম ও লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।






