আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রায় থমকে গেছে। এর ফলে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার চাহিদা কমেছে এবং ঋণপ্রবৃদ্ধি গত তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৪.১৭ শতাংশে নেমে আসে। টানা সাত মাস ধরে এই খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের ঊর্ধ্বসীমায় যেতে পারেনি।

বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৩০ জুলাই নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ভ্যাট-করসংক্রান্ত জটিলতা নতুন বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমানে ব্যবসা করার মতো অনুকূল পরিবেশ নেই। তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে, ২০৩০ সালের আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও দুর্বল চাহিদার কারণে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, অর্থনীতিতে গতি ফিরলে ঋণপ্রবৃদ্ধি বাড়বে, তবে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।