ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটন এলাকা সাজেক ও আশপাশে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জেএসএস (মূল) ও ইউপিডিএফ (মূল) দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৩ দিন অবরোধ চলছে। খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকটে বাসিন্দারা চরম মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অবরোধ শিথিল অবস্থায়ও গতকাল দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়, যাতে ব্যবসায়ীরা খাগড়াছড়ি বা চট্টগ্রাম থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারেন। গতকাল সোমবার থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, জেএসএস (মূল) ও ইউপিডিএফ (মূল) দুই গোষ্ঠীর দখলবাজি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সাজেকসহ আশপাশের এলাকায় ইউপিডিএফ (মূল)-এর কথিত সামরিক ঘাঁটি দখল ও চাঁদা আদায় নিয়ে জেএসএস (মূল)-এর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা অবরোধ চলে।

ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউপিডিএফ (মূল) পূর্ণ দখলে নেওয়ার পর বাসিন্দারা ফিরে আসলেও ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নির্ধারিত হারে চাঁদা দিয়ে আসছেন, যা বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা। জেএসএস (মূল) আবারও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বর্তমানে ৭০ ভাগ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়, গত ১৬ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। স্থানীয়রা চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর হস্তের দাবি জানিয়েছেন।