সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে সাত দিন ধরে চলমান অবরোধে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সমকাল অনুযায়ী, পর্যটক না থাকায় ব্যবসায়ীদের আয় বন্ধ, যানবাহন চলাচল বন্ধে খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা বলেন, প্রায় সব যানবাহন অচল, শত শত গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তিনি মানবিক বিবেচনায় অবরোধ শিথিল বা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাজেকের বাসিন্দা মিন্টি মালা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধ সংগ্রহ ও রোগী পরিবহন কঠিন হয়ে ওঠে।

গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজো বাজারে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য, দুই জেলার জেলা প্রশাসক এবং অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা মতবিনিময় সভা হয়। পাঁচ দফা দাবিতে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি, ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসেনি।

আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমা বলেন, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়িরা ভূমি হারিয়েছেন, ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে এখন অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তিনি প্রশাসনকে আহ্বান জানান, এক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দিলে সাজেকবাসী অবরোধ তুলে নেবে।

সমকাল ও ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা উভয়ই প্রতিবেদন করেছে যে, অবরোধে পর্যটন ও পরিবহন খাতের মানুষের আয় বন্ধ, বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সংকট নিরসন করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।