প্রথম আলো ও সংশ্লিষ্ট খবরসূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১১-দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জায়গার নাম ভাঙ্গা। আসলে সারা দেশের কোমর ভাঙা। তাই দেশ মেরামত করতে হবে। সংস্কার করতে হবে। গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’
আজ শনিবার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভাঙ্গা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে লংমার্চকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে গাড়ি থেকে ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের তাড়াতে হবে এবং দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা রাস্তায় নেমে আমাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। আমরা মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চাই।’
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই লংমার্চের মূল দাবিগুলো হলো: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, শক্তি ও সারসংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।
আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। বহর হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাওয়ার কথা। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে।
ভাঙ্গা পৌঁছানোর পর শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে গাড়িবহর খুলনার দিকে রওনা হয়। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক হাজার গাড়ি ভাঙ্গা মহাসড়ক অতিক্রম করে।
এর আগে আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে এক পথসভায় শফিকুর রহমান সরকারকে জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের পথসভায় তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।







