সমকালের 'ডাক্তারবাড়ি' বিভাগে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন ডা. আহসান কবিরের লেখা অনুযায়ী, অনেক শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মায় এবং শিশুর চোখে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে 'ট্যাড়া চোখ' একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগত সমস্যা।
ট্যাড়া চোখ কী এবং কেন হয়?
সামনে থেকে চোখের দুটি কালো অংশ সমানভাবে ডানে-বাঁয়ে ঘুরতে না দেখা গেলে তাকে ট্যাড়া চোখ বলা হয়। সামান্য হলেও একে 'লক্ষ্মীট্যাড়া' বলা একটি ভালো লক্ষণ নয়, বরং এটি একটি চিকিৎসাগত সমস্যা। চোখের চারপাশের ছয়টি মাংসপেশি চোখ ঘোরানোর দায়িত্ব পালন করে। এই মাংসপেশিগুলোর কার্যক্ষমতায় ভারসাম্য নষ্ট হলে চোখ ট্যাড়া হয়ে যায়।
চোখ ট্যাড়া হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো হলো: স্নায়ুগত সমস্যা (মস্তিষ্কের তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ স্নায়ুতে সমস্যা), চোখে আঘাত, দৃষ্টিশক্তি বা প্রতিসরণজনিত সমস্যা, চোখের আশপাশে বা পেছনে টিউমার, হঠাৎ প্রচণ্ড উচ্চমাত্রায় জ্বর, বংশগত বা পারিবারিক ইতিহাস, কর্নিয়া বা নেত্রস্বচ্ছ ঘোলা হওয়া, লেন্সের ছানি, রেটিনার সমস্যা এবং শরীরের কিছু বিপাকীয় রোগ।
কী করণীয়?
জন্মের পর থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর চোখের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। কোনো চোখ ট্যাড়া হচ্ছে কিনা লক্ষ্য করে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুর দৃষ্টি বা চোখসংক্রান্ত এ ধরনের সমস্যা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই সমাধান করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসক প্রয়োজনবোধে চশমা দিতে পারেন, চোখের বিশেষ ব্যায়াম বা কোনো একটি চোখ সাময়িক বন্ধ (Patching) রাখতে বলতে পারেন। ক্ষেত্রবিশেষে এসব পদ্ধতিতে অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিৎসক অপারেশনের পরামর্শ দিতে পারেন। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ সার্জারি, যার মাধ্যমে ট্যাড়া চোখ সম্পূর্ণ ঠিক করা সম্ভব। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে এবং তাকে সামাজিক হীনম্মন্যতা থেকে রক্ষা করবে।







