সমকাল প্রতিবেদনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য গত বছরের তুলনায় গড়ে ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। একই প্রতিবেদনে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ‘অক্টোবর ২০২৬ : কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বছর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার হতে পারে, যা ২০২৫ সালের ৬৯ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০২৭ সালে দাম ৭৯ ডলারে নেমে আসতে পারে, তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে ১০৫ ডলারে উঠতে পারে।
খাদ্য ও কৃষি বাজারের ঝুঁকি
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানিতে বিঘ্ন, এল নিনোর প্রভাবে ফসলের ক্ষতি এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে, এবং ২০২৭ সালে আরও ৯ শতাংশ বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, যদি সংঘাত বাড়ে বা এল নিনোর প্রভাব বেশি হয়, তবে ২০২৭ সালে খাদ্যদাম ২০২২ সালের স্তর অতিক্রম করতে পারে।
ইত্তেফাকের একই বিষয়ের প্রতিবেদনে একই শতাংশের পূর্বাভাস উল্লেখ করা হয়েছে এবং যোগ করেছে যে বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। উভয় সূত্রই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ধাতু ও খনিজের দিকেও মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাশিত; বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে ধাতু ও খনিজের গড় দাম গত বছরের তুলনায় ২৪.৫ শতাংশ বাড়তে পারে, এবং মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে যে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মোকাবিলায় তার বিদ্যমান অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সমগ্রভাবে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে ২০২৭ সালে সামগ্রিক পণ্যমূল্য সূচক ৭ শতাংশ কমতে পারে; অন্যথায় তেল ও খাদ্যদামের উত্থান বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বাড়াতে পারে।







