জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের এলডিসি (এলডিসি) উত্তরণের প্রস্তুতি পর্ব আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আগামী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই বাড়তি সময়কে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দায়িত্ব

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, এই বাড়তি সময় কাজে লাগাতে আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখাতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি লিখে এই সময় চেয়েছেন, তাই নির্ধারিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপরও পড়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে এই সুফল পাওয়া যাবে না।

ড. দেবপ্রিয়র মতে, আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করতে হবে: এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জবাবদিহি ও নতুন প্রস্তুতি

সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশের জন্য একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে সর্বদলীয় ককাস গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। শ্রমঘন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর সংযোজন এবং সেবা খাতের মতো নতুন সম্ভাবনাময় খাতে মনোযোগ দিতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এমন প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষও উন্নয়নের সুফল পাবে।