নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করলে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী (এম এ হাদী)-এর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মিলন হলে ডা. এম এ হাদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইনকিলাব ও বাসসের প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ডা. হাদী শুধু চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

বক্তব্যে তিনি দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফার্ডকৃত রোগীদের জন্য বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গবেষণা জোরদার এবং চিকিৎসকদের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এবং ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী ডা. এম এ হাদী ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৭৩ সালে বিসিপিএস থেকে সার্জারিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।