গত দশকে নিম্ন আয়ের পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহার, শিক্ষা ও জীবনমানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে সমকালের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ যৌথভাবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৫৫৬টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা পরিচালনা করেছিল। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত গণসংলাপে সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
বিদ্যুৎ ব্যবহার ও যন্ত্রপাতির মালিকানা বৃদ্ধি
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত ১০ বছরে তাদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে। ৭৭ শতাংশ পরিবারের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। টেলিভিশনের মালিকানা ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশ, ফ্রিজের ১০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ এবং কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মালিকানা ২ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ হয়েছে।
শিক্ষা ও ডিজিটাল সুযোগের প্রসার
৭৬ শতাংশ পরিবার মনে করে বিদ্যুতের কারণে ঘরে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। ৪৮ শতাংশ পরিবার অনলাইন শিক্ষা গ্রহণ করে, ৬৫ শতাংশ ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ৪৪ শতাংশ নিয়মিত সামাজিক মাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। শিক্ষার্থী রয়েছে এমন পরিবারে দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি পড়াশোনার হার ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে।
আয় ও জীবনমানের পরিবর্তন
মাসে ১০ হাজার টাকার কম আয় করা পরিবারের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশ হয়েছে, বিপরীতে ২০ হাজার টাকার বেশি আয় করা পরিবারের হার ৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশ হয়েছে। ২১ শতাংশ পরিবার আয়ের উৎস পরিবর্তিত হয়েছে বলে জানিয়েছে, তবে বিদ্যুতের সহায়তায় নতুন আয়ের কাজ বা ব্যবসা শুরু করেছে মাত্র ১০ শতাংশ পরিবার। ৮৯ শতাংশ পরিবার মনে করে বিদ্যুৎ তাদের জীবনমান উন্নত করেছে। ৮২ শতাংশের মতে রাতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, ৮১ শতাংশ জানিয়েছে নারীদের গৃহস্থালি কাজের সময় কমেছে এবং ৬২ শতাংশ মতে নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলোর উৎসে পরিবর্তন
১০ বছর আগে ৪২ শতাংশ পরিবার কেরোসিনের বাতি ব্যবহার করত, বর্তমানে মাত্র ২ শতাংশ পরিবার নিয়মিত কেরোসিন বা মোমবাতি ব্যবহার করে। ৫৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা এখন আর এসব ব্যবহার করে না।
বিলের চাপ ও সেবা উন্নতির দাবি
তবে ৬৯ শতাংশ পরিবার আয়ের তুলনায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে। ৬৩ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎসেবার আরও উন্নতি চায় এবং বিদ্যুতের ভর্তুকি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনেও এই তথ্য যাচাই করা গেছে, যেখানে বলা হয়েছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাব প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম জানান, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৫২.৫০ মেগাওয়াট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১৫০টি কলেজ এলাকায় ৫১.১২ মেগাওয়াট, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৪.৬৩ মেগাওয়াট এবং শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ৪.৩৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মোট সম্ভাব্য উৎপাদনক্ষমতা ১৩২.৬১ মেগাওয়াট।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, আগে মূলত ঘরে আলোর জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও এখন গৃহস্থালি কাজ, শিক্ষা, বিনোদন ও যোগাযোগে এর ব্যবহার বেড়েছে, তবে উৎপাদনশীল কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার এখনও সীমিত। গণসংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দিয়ে হতদরিদ্র পরিবার শনাক্ত করা কঠিন। অনেক দরিদ্র পরিবার অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাই দারিদ্র্য নিরূপণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া।






