রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পাহাড়ের দুটি সশস্ত্র সংগঠন—ইউপিডিএফ ও জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ)—এর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৮ দিন ধরে অবরোধ চলছে বলে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে।
অবরোধের ফলে সাজেক ভ্যালির ৩৫ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন কেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও কৃষকরা কলা, মরিচ ও কমলার মতো পচনশীল কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ।
গত ২৬ অক্টোবর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য, দুই জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ উচ্চাধিকারীরা সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অবরোধকারীরা ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে প্রধান দাবি ছিল সাজেক এলাকা থেকে জেএসএস সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া। সরকারি প্রতিনিধিদল জেএসএস হটানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি, ফলে বৈঠক অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়।
স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, ২২ অক্টোবর পর্যটক উদ্ধারের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরোধ নিয়ে আর কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই অবরোধ এক বছর ধরে চললেও তারা আর এ নিয়ে মাথা ঘামাবে না।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেছেন, সাজেকের অবরোধ পরিস্থিতিতে কোনো উন্নতি হয়নি এবং কারও সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংকট নিরসনে বাঘাইছড়ির ইউএনওকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর সাজেক এলাকায় শান্তি ফিরেছিল। পরবর্তীতে ইউপিডিএফ গঠনের পর এলাকার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে ছিল। গত এক-দেড় বছরে ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতাদের বহিষ্কারের সুযোগ নিতে জেএসএস সাজেকের ইউপিডিএফ-নিয়ন্ত্রিত খামার ও এলাকা দখল করেছে। হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে ইউপিডিএফ প্রথমে পর্যটকদের জিম্মি করার চেষ্টা চালিয়ে পরে স্থানীয়দের ঢাল হিসেবে অবরোধের ডাক দিয়েছে।







