পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সমকালের জানামতে জানিয়েছে যে, সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা চাইলে রাতযাপন করতে পারবেন এবং দ্বীপটি ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে পর্যটন মৌসুমে থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান সোমবার সকালে সমকালকে জানিয়ে বলেন, “সাড়ে চার মাস পুরোটাই খোলা থাকবে। রাতযাপন নিয়ে আমরা আলাদাভাবে কিছু বলছি না। পুরো সময় পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে। পর্যটকেরা চাইলে রাতযাপন করতে পারবেন, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত।”
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ অনুমোদিত হবে এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ‑২ শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাবরীনা রহমান স্বাক্ষর করেছেন এবং আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, “সরকার আগামী মাস থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করার কথা জানালেও রাতযাপনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। এখন দ্বীপে রাতযাপনে বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে। এতে দ্বীপবাসী আনন্দিত।”
সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের আগমনকে সামনে রেখে দ্বীপের সব পেশার মানুষ কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবাই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে ব্যস্ত। এবার পুরো সময় রাতযাপনের সুযোগ থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসু-উভয়ের জন্যই তা ভালো খবর। কক্সবাজার থেকে আট‑নয় ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আসা পর্যটকদের ভ্রমণের কষ্টও কমবে। তাদের দিনে এসে দিনেই ফিরে যেতে হবে না।”
পর্যটন ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেন যে, পূর্বে পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত থাকায় ব্যবসা স্থবির ছিল; এখন রাতযাপনের সুযোগ থাকলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌপরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি পাবে।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের মন্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, পর্যটকরা দ্বীপে রাতযাপন করতে পারবেন, ফলে দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এই তথ্যসমূহ সমকালের রিপোর্ট এবং বাংলা ট্রিবিউনের সংশ্লিষ্ট কভারেজের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।







