দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থা ও ফায়ার স্টেশন না থাকায় দ্বীপটিতে চরম অগ্নিঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশ রূপান্তর। আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটির মাত্র চার বর্গকিলোমিটার জুড়ে সাড়ে ১০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে পর্যটন মৌসুমে নিয়মিত যুক্ত হন হাজার হাজার পর্যটক ও সেবাদানকারী কর্মী।

দেশ রূপান্তর জানায়, সংকুচিত এই জনবসতি এলাকায় স্থানীয়দের প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ির পাশাপাশি আড়াইশ হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ এবং শতাধিক স্থায়ী ও পাঁচ শতাধিক ঝুপড়ি দোকান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, স্মোক ডিটেক্টর বা প্রাথমিক চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ফায়ার লাইসেন্সও নেই। এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি গলাচিপা এলাকার একটি রিসোর্টে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে ২৬টি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সেন্টমার্টিন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ খান এবং হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ফায়ার স্টেশন ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকায় স্থানীয়দের চরম উদ্বেগের কথা দেশ রূপান্তরকে জানান। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সেন্টমার্টিনে দ্রুত একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভুইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি করতে ঢাকা থেকে চারটি টিম পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে উপ-সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম সেন্টমার্টিনে কাজ করবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই পর্যটনসেবা দেওয়ার নির্দেশনা তদারকি করবে উপজেলা প্রশাসন।